মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে উপজেলার ৬ নম্বর
দরবস্ত ইউনিয়নের সাবগাছি হাতিয়াদহ গ্রামে রাসেল নামের এক ব্যক্তির দোকানের সামনের রাস্তা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ববাড়ী গ্রামের মৃত নছিম উদ্দিনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৪) এবং ফুলবাড়ী (মিস্ত্রিপাড়া) গ্রামের মৃত বাবলু মিয়ার ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানার জিডি নং-১১১৭, তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর ভিত্তিতে থানা এলাকায় রাত্রীকালীন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় ২৩ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন গাইবান্ধা মোড়ে অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সাবগাছি হাতিয়াদহ গ্রামে রাসেলের দোকানের সামনে দুই ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তাঁদের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ২৪ অক্টোবর রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো যথাযথ জব্দতালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্তে নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছ
মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছ। দায়িত্ব পালনে তাঁর পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কার্যকর নেতৃত্ব থানার নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মীর কায়েছের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর নেতৃত্বে আইনানুগভাবে পরিচালিত অভিযানগুলো পুলিশের পেশাদার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি তাঁদের পেশাগত মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি জনসেবায় আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। এ ক্ষেত্রে মীর কায়েছের মতো দায়িত্বশীল ও পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা তুলে ধরা পুলিশ সদস্যদের ইতিবাচক কাজের স্বীকৃতি এবং জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অবদানের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার তথ্য
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রতারণা, চুরি, মারামারি, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলা উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনসহ বিভিন্ন আইনে পূর্ববর্তী মামলা থাকার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২০২৫ ও ২০২৪ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার তথ্যও পুলিশি নথিতে রয়েছে।
তবে পূর্ববর্তী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট নথি থেকে যাচাইযোগ্য।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, অপরাধ দমন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের এ ধরনের আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
