
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, ইভটিজিং বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। মাদক, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশি নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের তৎপরতায় বিভিন্ন ঘটনায় উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। গত ৯ আগস্ট সিরাজগঞ্জ থেকে ছিনতাই হওয়া ২৯টি গরুর মধ্যে ৯টি গরু সাদুল্লাপুরের ফরিদপুর ইউনিয়ন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাকি গরু ও ট্রাক উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছিলেন ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। সম্প্রতি সাদুল্লাপুরে বসতবাড়ির আঙিনায় গাঁজা চাষের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হলে মাদক, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিং ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে তরুণদের একটি অংশ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অনলাইন জুয়া ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ বলছে, অপরাধী যে-ই হোক, অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। মাদক, জুয়া, ইভটিজিংসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা ও পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
