
বিপ্লব তালুকদার : নাটোর জেলা প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়ায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরতে পারেননি আনোয়ার হোসেন (৩৩)। পরদিন বিকেলে একটি নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার হলো তার মরদেহ। পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয়দের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের ভোগা বসন্তপুর এলাকার ফরিদনগরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের গেদু মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গতকাল বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ার। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে আজ সকালে সিংড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই আসে আনোয়ারের মৃত্যুর খবর।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা আনোয়ারকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা চুরি বা ছিনতাইকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
আনোয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে একজন অটোরিকশাচালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এখন পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে আনোয়ারের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
