
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মো. মনিরুজ্জামান। প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সর্বশেষ তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিচিতি নম্বর ১৬৫৯৩-এর এই কর্মকর্তাকে ঘিরে গাইবান্ধায় জনবান্ধব ও কার্যকর প্রশাসনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গাইবান্ধায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেন নতুন জেলা প্রশাসক। সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক নানা বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. মো. মনিরুজ্জামান। সাংবাদিকদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন ও জনসেবার স্বার্থে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
মাঠ প্রশাসন থেকে মন্ত্রণালয়ে:
ড. মো. মনিরুজ্জামানের কর্মজীবনে মাঠ প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, কর্মজীবনের একটি পর্যায়ে তিনি সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) পরিচালক (উপসচিব) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
মন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন
২০২৬ সালে:
ড. মো. মনিরুজ্জামানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও সমন্বয়মূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে তাঁকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুরের কৃতি সন্তান:
ড. মো. মনিরুজ্জামানের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ভুল্লি গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তিনি মেধাবী ও কৃতী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর নিজ এলাকাতেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রত্যাশা জনবান্ধব প্রশাসনের
নতুন জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড. মো. মনিরুজ্জামান জেলার নাগরিক সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করবেন। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন নতুন জেলা প্রশাসক।
