8
মোঃ রানা সরকার বিরামপুর উপজেলা (প্রতিনিধি)
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব জগন্নাথপুর কলোনিপাড়া ও বিরামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা ও কথিত ‘টাইপেন্ডার’সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের অবাধ কেনাবেচা ও সেবনের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের কার্যক্রম চলে আসছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কায় অভিভাবকরাও চিন্তিত বলে জানান তারা। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব জগন্নাথপুর কলোনিপাড়ার কয়েকটি বাড়ির অভ্যন্তরে থাকা মাটির ঘরেও মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের কার্যক্রম চলে। অভিযোগে নিক্কা রায়হান,পিতা মৃত ইউনুস আলী এবং মোছাঃ সাহেদা,স্বামী মৃত ইদ্রিস আলীর নামে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন প্রয়োজন। এ ছাড়া স্থানীয় অভিযোগে মাদকদ্রব্য সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে নেকা, শাহাদাত, গেন্দি, জায়েদা, মেজ বাবু ও সোহেল নামে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
মাজারের পাশে টুকু নামের যার একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে, এই দোকান থেকে বাংলা মদ সহ চুল্লী ও সামিউল নামের ব্যক্তির বাড়ি থেকে নিয়মিত ভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কেউ নিজ বাড়ি থেকে, কেউ বাড়ির সামনে, কেউ রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উত্তর দিকে থাকা পানের দোকান সংলগ্ন এলাকা থেকে এবং কেউ ঘুরে ঘুরে বা রিকশাযোগে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কলোনি পাড়ার পশ্চিম পূর্ব ও উত্তর দিকে থাকা রাস্তা দিয়ে গেলে কথিত বাড়ি গুলোর অবস্থান শনাক্ত করা যাবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এলাকাবাসীর দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সচেতন এলাকাবাসী বলছেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক এলাকার আশপাশে মাদকদ্রব্যের অবাধ বিস্তার রোধ করা না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব কিশোর তরুণদের ওপর পড়তে পারে। তাই মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মোঃ রানা সরকার বিরামপুর
উপজেলা (প্রতিনিধি) দিনাজপুর
মোবাইল:০১৭৪১১৬৪৭৩৫
