
আদালতের রেজিস্টারে নেই এফিডেভিটের অস্তিত্ব, নথি যাচাইয়ে মিলল অসঙ্গতি; জাল নথি আদালতে বৈধ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে এফিডেভিট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পলাশবাড়ীর বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জাল স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত ওই এফিডেভিটকে বৈধ নথি হিসেবে আদালতে উপস্থাপনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর এলাকার মানিক উল্লাহর ছেলে সাকোয়াত হোসেন ও তাঁর ছেলে আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা। এর আগে মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে জেলা শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এনআইডি সংশোধনের এফিডেভিট করতে গিয়ে সন্দেহ
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য এফিডেভিট করতে সাকোয়াত হোসেন ও তাঁর ছেলে আসাদুজ্জামান আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।
কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় একই ব্যক্তিকে নিয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরেকটি এফিডেভিটের ফটোকপি দেখতে পান বেঞ্চ সহকারী। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আসাদুজ্জামানের কাছে তাঁর বাবা সাকোয়াত হোসেনের নামে করা এফিডেভিটের মূল কপি চাওয়া হয়।
পরে ওই মূল এফিডেভিট জমা দেওয়া হলে তাতে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের নামে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
রেজিস্টারে নেই এফিডেভিটের নম্বর
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩, গাইবান্ধা’র সিল ব্যবহার করা হয়েছে। এফিডেভিটে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৬ জুন ২০২৬।
তবে আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি থাকার তথ্যও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া এজাহার অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংরেজি সিল নিয়েও প্রশ্ন
জাল এফিডেভিটে ব্যবহৃত সিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এজাহারে বলা হয়েছে, নথিতে ইংরেজি ভাষায় যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর প্রকৃত এফিডেভিটে বাংলাভাষায় সিল ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
জাল নথি আদালতে উপস্থাপনের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে এফিডেভিটটি তৈরি করেন। পরে ওই জাল নথিকে বৈধ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় সাকোয়াত হোসেন, আসাদুজ্জামানসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
