পুঠিয়া প্রতিনিধি,
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্বজনদের বুকে ফিরে পাওয়ার এক আকুল আকুতি বয়ে বেড়াচ্ছেন মর্জিনা নামের এক নারী। দীর্ঘ চার দশক আগে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই নারী আজও পথ চেয়ে বসে আছেন কখন খুঁজে পাবে তার জন্মদাত্রী মা-বাবা কিংবা স্বজনদের।
এক সময় মর্জিনার বাবা ছোট ভাই-বোন ও মাকে ফেলে পালিয়ে যান। সেই বাবা ফিরে আর আসে নি। এক পর্যায়ে ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে শুরু করেন মা হামিদা রাবেয়া।
সন্তানদের বাঁচাতে দু’মুঠো মুখের আহার তুলে দিতে। তিনি পাড়ি দেন ঢাকায়।
ছোট মর্জিনা ও ছোট ভাইকে ঘরে তালা বন্দি করে রেখে বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে মানুষের বাসায় কাজ করে কোন রকম জীবন যাপন করছিলেন মা হামিদা রাবেয়া।
হঠাৎ একদিন মা রাবেয়া সন্তানদের খাবার খোঁজে বেরিয়ে গেলে,দুষ্কৃতিকারী এক নারী মর্জিনাকে,বেড়ানোর,নাম করে নিয়ে যায় এক নির্জন স্থানে।
ছোট সেই মর্জিনা বুঝতে পারে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
সেখান থেকে পালিয়ে সে অন্য কোথাও চলে যায়। তখন তেমন কিছুই বুঝতো না ঢাকা শহরে ছোট্ট মর্জিনা , এক সময় মা ও ছোট ভাইকে ঢাকা শহরে বিভিন্ন অলিগলিতে খুঁজেও পাইনি মর্জিনাজিনার মা ও ছোট ভাইকে।
ছোট্ট মর্জিনা নিজের জীবিকার জন্য কাজ করে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে, এভাবেই কাজ করতে করতে বয়স যখন ১৬ তখন তিনি একটি চাকরি পান গার্মেন্টস কোম্পানিতে ।
শৈশবে মর্জিনা অনেক ছোট মা হামিদা রাবেয়া সময় সময় বলতেন,মর্জিনা তোর বাবার নাম মোস্তফা তার আসল বাড়ি চিটাগাং তোর নানার বাড়িতে তোদের বাবা ঘর জামাই ছিলেন। তার অতীতের স্মৃতি অনুযায়ী তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানায়।
বর্তমানে তিনি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে বসবাস করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও নাড়ির টানের সেই স্মৃতিগুলো আজও তাঁর মনে অম্লান। নিজের শিকড় ও স্বজনদের ফিরে পেতে তিনি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সোনাইমুড়ী বা নোয়াখালী অঞ্চলের কোন হৃদয়বান ব্যক্তি যদি মোস্তফা ও হামিদা ( রাবেয়া) দম্পতির হারিয়ে যাওয়া সন্তান মর্জিনার বিষয়ে কোনো তথ্য জেনে থাকেন,কিংবা তাঁর পরিবারের সন্ধান দিতে পারেন, তবে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আপনার একটি ছোট্ট উদ্যোগ বা সামান্য তথ্যই পারে দীর্ঘ ৪০ বছরের একটি অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি পরিবারকে পূর্ণমিলিত করতে।
পুঠিয়া
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
