
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
মেশিনের শব্দে ব্যাহত নামাজ, স্কুলে যাতায়াতে ভোগান্তি; ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযানের আশ্বাস ইউএনওর
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালীতে বাগগুজারা সেতুর দুই পাশে ছয়টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। গত ১৫-২০ দিন ধরে সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে তিনটি করে মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারা অন্য স্থানে থাকলেও সেতুর পিলার ঘেঁষে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাগগুজারা সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি বালুবাহী ভারী ট্রাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়ক।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও মেশিনের বিকট শব্দে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, মসজিদের চারপাশে বালু স্তূপ করে রাখায় মসজিদে যাতায়াত ও নামাজ আদায়ে সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মেশিনের প্রচণ্ড শব্দে নামাজের পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে। এমনকি শব্দের কারণে ইমামের কেরাত পড়তেও অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
এছাড়া বালুবাহী ট্রাক চলাচলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে যাওয়া-আসা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে হামলা ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে মেশিনগুলো জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আইনে কী আছে?
বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দীন বলেন, তাঁদের ইজারা রয়েছে এবং বালু উত্তোলনের অধিকার আছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “আমি নিজেই বিষয়টি দেখেছি, অদ্ভুত লেগেছে। এসিল্যান্ডকে দুই দিনের মধ্যে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিচ্ছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউএনওর দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বাগগুজারা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
