
সুজন আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
বাঙালি নারীর সাজে চুলের খোঁপা সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের প্রতীক। সেই খোঁপাই হয়ে উঠেছিল ইয়াবা লুকানোর কৌশল। চুলের ভেতরে কাঁকড়া দিয়ে আটকানো নীল পলিথিনের প্যাকেটে রাখা হয়েছিল ১০টি ইয়াবা। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না। তবে ডিবি পুলিশের তল্লাশিতে খুলে যায় সেই গোপন রহস্য। খোঁপা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি ওই নারীর ভাইয়ের পকেটেও পাওয়া যায় আরও ১২টি ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১৪ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় ভাই-বোন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ঠাকুরগাঁও বিচারক আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রোড বাজার রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল রানা (৩২) ও তাঁর বোন মোছা. বাবলি (২৬)। তাঁদের বাড়ি সদর উপজেলার হরিহরপুর হাজীপাড়া এলাকায়।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, রোড বাজার রেলগেটের পশ্চিম পাশে একটি চায়ের দোকানে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন ওই ভাই-বোন। খবর পেয়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশের দল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে তাঁদের আটক করা হয়।
তল্লাশির সময় রুবেল রানার পরনের প্যান্টের ডান পকেট থেকে ১২টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাম পকেটে পাওয়া যায় নগদ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তায় বাবলির দেহ তল্লাশি করে মাথার চুলের খোঁপায় কাঁকড়া দিয়ে আটকানো নীল রঙের জিপার পলিথিনের ভেতর থেকে ১০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রুবেল রানার বিরুদ্ধে আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থায় (সিডিএমএস) তাঁর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় এবং ২০২৪ সালে বালিয়াডাঙ্গী থানায় করা দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং ২০২৪ সালের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এজাহারে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলার কথা উল্লেখ করা হলেও বাকি মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এ টি এম গোলাম রসূল বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ভাই-বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
