মো: নুরনবী বোরহানউদ্দিন (ভোলা)
গত ১৫ বছর ধরে চলা এক দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে রাজপথে নেমেছে ভোলার বড় মানিকা ৮ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ। আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা চিহ্নিত ভূমিদস্যু, সন্ত্রাস ও হয়রানিমূলক মামলার হোতা মন্তাজ মাঝি এবং তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে আজ এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জবরদখল ও চাঁদাবাজির এক মহোৎসব ” বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত দেড় দশকে মন্তাজ মাঝি ও তার পরিবারের ছত্রছায়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি নরকে পরিণত করেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মন্তাজ মাঝির প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চিহ্নিত ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন হৃদয়, শাহাবুদ্দিন, মুক্তার, আকবর, মিঠু ও সুমন। বক্তারা অভিযোগ করেন, এই চক্রটি কেবল মানুষের জমি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং কেউ প্রতিবাদ করলেই তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হতো। চাঁদাবাজি ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। বড় মানিকার সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিন্দু পরিবার কেউই এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পায়নি। মানববন্ধনে উপস্থিত এক হিন্দু বৃদ্ধ ভুক্তভোগী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন: “আমার পৈতৃক সম্পত্তিটুকু মন্তাজ মাঝি গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে।
প্রতিবাদ করতে গেলে ওর ক্যাডার বাহিনী আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমরা গত ১৫ বছর নিজের এলাকায় ভিনদেশির মতো ভয়ে ভয়ে বাস করেছি।” জনসাধারনের দাবি ৮ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়: ১:অবৈধ দখলদারিত্ব অবসান: গত ১৫ বছরে দখলকৃত সকল জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ২:সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার: নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার ইলিয়াস হোসেন হৃদয়, শাহাবুদ্দিনসহ পুরো বাহিনীকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ৩:মামলাবাজি বন্ধ: সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দেওয়া সকল মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। এলাকাবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন না এই ভূমিদস্যু ও মামলার কারিগর মন্তাজ মাঝির বিচার হবে, ততদিন তাদের আন্দোলন চলবে। স্বৈরাচারের দোসরদের আর বড় মানিকার মাটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না।

