এম এ হানিফ রানা – বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে তারাবির নামাজ শেষে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র’কে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ আগুনে পোড়ানোর মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী গ্রেফতার করল গাজীপুর জেলা পিবিআই। গ্রেফতারকৃত আসামীর নামঃ মামলার ঘটনার সাথে জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত আসামী ১। ছাব্বির আহম্মেদ (১৯), পিতা-মোঃ আব্দুল বারেক, মাতা-মাফিয়া বেগম, স্থায়ী সাং-নিজ তুলন্দর, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, পোঃ-গাফুরিয়া মাদ্রাসা, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা- ময়মনসিংহ
বর্তমান সাং-ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টস এর সামনে হাজী ইকবাল হোসেন এর বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর। এ বিষয়ে নিহত মাহাবুব ইসলাম রনির দাদা মোঃ তারা মিয়া (৫৫) বাদি হয়ে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলা নং-০১, তারিখ-০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/২৪ পেনাল কোড। নিহত মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩) জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল। ঘটনার সূএপাত গত ২৭/০২/২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০৯.০০ ঘটিকার সময় ডিসিস্ট ( মাহবুব ইসলাম রনি) জয়দেবপুর ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে ডিসিস্ট বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ডিসিস্ট এর কোনো সন্ধান পায়নি। তারপর পরের দিন ২৮/০২/২০২৬ ইং তারিখ বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বাদী সংবাদ পায় যে, জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় মোঃ মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন ফলজ ও বনজ গাছপালার জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় ১৩/১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের মৃতদেহ পড়ে আছে।
উক্ত সংবাদ পেয়ে বাদীসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কোমর হতে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় মৃতদেহটি দেখে বাদী তার নাতী মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩) কে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ডিসিস্ট মাহবুব ইসলাম রনির মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে এই সংক্রান্তে মৃতার দাদা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে সুত্রোক্ত মামলাটি রুজু হয়।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর জয়দেবপুর থানা পুলিশ গত ০১/০৩/২০২৬ তারিখ হতে ০৫ দিন মামলাটি তদন্ত করে। থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি চৌকস দল উক্ত ঘটনার ছায়া তদন্ত অব্যাহত রেখে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা হতে গত ০৫/০৩/২০২৬ তারিখ ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ছাব্বির আহম্মেদ কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাস্যবাদে সে অত্র মামলার ঘটনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ততার বিষয় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি প্রদানে ইচ্ছা পোষন করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় স্ব-উদ্যেগে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে।
অতিরিক্ত আইজিপি পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের সঠিক তত্ত্বাবধান ও পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি তদন্ত করেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্যঃ- এ বিষয়ে জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর জেলা মহোদয় বলেন যে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স তথ্য, পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণ এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলা প্রতিনিয়ত অপরাধ দমনে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।” গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার দিন রাত অনুমান ০৯.০০টার দিকে আসামী ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের উদ্দেশ্যে জঙ্গলের ভিতরে যায়। সে পূর্বেও মাঝে মাঝে ঐ জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় ডিসিস্ট মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে আসামীকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেয়ার কথা বলে। এতে আসামী তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে।
কিন্তু ডিসিস্ট পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেয়ার কথা বললে আসামী ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে ডিসিস্টকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে ডিসিস্টের গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে আসামী ডিসিস্টের ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করতঃ হত্যা করে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়। অদ্য ০৬/০৩/২০২৬ তারিখ অপরাহ্নে গ্রেফতারকৃত আসামী ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) অত্র মামলার ঘটনায় ডিসিস্ট মাহাবুব ইসলাম রনিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়ার দায় স্বীকার করে নিজেকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
