বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা
সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।। সিগারেটের দাম বাড়ার গুঞ্জন এবং জাতীয় বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামে অসাধু ব্যবসায়ীরা পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সিগারেটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এর ফলে অনেক দোকানে সিগারেট মিলছে না, আবার মিললেও নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শুক্রবার (১২ জুন) কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই গত ৩ দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানিগুলো সিগারেট প্রতি শলাকা সিগারেট ১ থেকে ২ টাকা করে বাড়িয়ে বিক্রি করছেন খুচরা দোকানিরা।
সিনডিকেটকে দায়ী করে খুচরা দোকানিরা বলেন, ‘কোম্পানির কিছু লোক এবং পাইকারি ডিলাররা মিলে সিগারেটের সিন্ডিকেটে সৃষ্টি করেছে। ‘কোম্পানি থেকে যে এজেন্টরা সরাসরি সিগারেট নেন, তারা গোডাউনে মজুত করে রেখেছেন। খুচরা বাজারে চাহিদা অনুযায়ী তারা সিগারেট ছাড়ছেন না। ইচ্ছা করেই বাজারে সিগারেটের দাম বাড়িয়েছেন পাইকারি ডিলাররা।’ এ বিষয়ে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছেন তারা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলাররা আগে প্রতিদিন ১৫-২০ কার্টুন করে সিগারেট দিত, কিন্তু এখন দেয় ৬-৭ কার্টুন। প্রতিদিন আমরা ১৫-২০ কার্টুন বিক্রি করি। সরবরাহ কম থাকায় আমরা চাহিদা মতো খুচরা ব্যাবসায়ীদের দিতে পারছি না, এ কারনেই খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ করে সিগারেটের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ ধূমপায়ীরা। তারা বলেন, বাজেটের পর সিগারেটের দাম বাড়বে, এটা সবারই জানা। কিন্তু বাজেটের দুই তিন আগে তার ইচ্ছা করে সংকট তৈরি করে। ফলে ডিলারদের বাজিমাত আর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা ক্রেতারা। মনে হচ্ছে সয়াবিন তেলের মতো এবার সিগারেটও সিন্ডিকেটের শিকার। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি করছেন তারা।
সিগারেটের দাম বাড়ার গুঞ্জনের মধ্যে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দুই দিন হল কোম্পানির ভ্যান গাড়ি দিয়ে কোন প্রকার সিগারেট সরবরাহ করছেনা। কিছু এলাকায় কোম্পানিগুলো সিগারেট সরবরাহ করলেও চাহিদা অনুযায়ী সিগারেট সরবরাহ না করায় বাধ্য হয়ে পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের। এই কারণে প্রতি সিগারেটের উপরে ১ থেকে ২ টাকা বেশি নিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীরা।
খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যানসন প্রতি প্যাকেট কোম্পানির মূল্য ৩৮০ টাকা হলেও বাজারে কিনতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। গোল্ডলিফ কোম্পানির মূল্য ২৮০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। লাকি স্ট্রাইক ২১৬ টাকার পরিবর্তে ২২০ টাকা, নেভি ৮০ টাকার পরিবর্তে ৮৫ টাকা, স্টার ৮০ টাকার পরিবর্তে ৯৪ টাকা, রয়েল ৬৩ টাকার পরিবর্তে ৭০ টাকা এবং ডার্বি কোম্পানির ৭২ টাকার পণ্য বাজারে ৭৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, আগে কোম্পানির ভ্যান গাড়ি সরাসরি দোকানে এসে অর্ডার অনুযায়ী সিগারেট সরবরাহ করত। কিন্তু দুইদিন হল কোম্পানির ভ্যান গাড়ি দিয়ে কোন প্রকার সিগারেট সরবরাহ করছেনা। তাই বাধ্য হয়ে আমরা বাজার থেকে মাল নিয়ে আসছি
কিন্তু বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী মাল দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সিগারেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একাধিক খুচরা ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দাম বাড়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু মহল বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ) দায়িত্বশীল কর্মকর্তা । তারা বলেন, “আমাদের কোনো সংকট নেই। একজন খুচরা ব্যবসায়ীর সারাদিনের যে পরিমাণ সিগারেট প্রয়োজন, আমরা সেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছি।” এদিকে বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দাম বাড়ার গুজবকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।/////mobile 01718070388
