বোরহানউদ্দিনে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: মামলার ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেফতার ২
নুরনবী বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি :
ভোলার বোরহানউদ্দিনে চতুর্থ শ্রেণির ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ও ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মো. মহিউদ্দিন (৯৯ নং হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। অপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. বাচ্চু, যিনি ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া ও স্থানীয়ভাবে সালিসের নামে আপসের চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার ও ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের ৯৯ নং হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ জুলাই (২০২৬) বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন শিশুটিকে জোর করে তার কক্ষে বসিয়ে রাখেন।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় থেকে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শিশুটিকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার স্টোররুমে নিয়ে যান। সেখানে একটি টেবিলের ওপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
শিশুটির চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেন এবং এ কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে যেভাবে এলো
ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে এসে যন্ত্রণায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। তার শারীরিক অবস্থা দেখে দাদি কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে ভয়ে সে চুপ থাকে। পরবর্তীতে পরিবারের চাপের মুখে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।
বিষয়টি জানার পর শিশুটির পরিবার স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে বিষয়টি জানায়। তবে তিনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে পরিবারটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। শিশুটির দাদা মো. রফিজল ইসলাম (৬৫) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশের দ্রুত অভিযান ও প্রশংসা
মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। মামলা করার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন এবং সালিসের নামে আপসের চেষ্টা চালানো সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে আটক করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান:
“অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”
