
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকায় নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হচ্ছে। তবে ধারাবাহিক এসব অভিযানের পরও মাদকের বড় কারবারি ও মূল সরবরাহকারীরা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘদিনের অভিযান পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, এসব অভিযানে অনেক সময় ছোটখাটো মাদক কারবারি, বহনকারী কিংবা মাদকসেবীরাই গ্রেপ্তার হচ্ছেন। কিন্তু মাদকের বড় ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মূল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাফল্য কতটা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ডিবি পুলিশ যেসব বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে, সেসব বাড়ি অনেক ক্ষেত্রেই এলাকায় মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা মাদকের বাড়ি হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সেখানে গিয়ে ঘরের বিভিন্ন স্থান, ওয়ারড্রোব, বিছানার নিচে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। আইনসম্মত তল্লাশি অপরাধ দমনের অংশ হলেও, এসব অভিযানের পর মূল মাদকচক্রের কতটা সন্ধান মিলছে,
তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আটক নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ:
আরও অভিযোগ রয়েছে, কখনো কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, রাজমিস্ত্রি বা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকেও সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা হচ্ছে।
কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের সন্তানকে আটকের কথা জানিয়ে ফোন করা হয় এবং ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি হলো, কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নম্বরের পরিবর্তে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই পরিবারের সদস্যদের ফোন করা হয়েছে।
একাধিক অভিভাবকের দাবি, তারা যে নম্বর থেকে ফোন পেয়েছেন সেটি পরে যাচাই করে দেখেছেন, নম্বরটি আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ফোনের। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ব্যবহার করে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়াটি কতটা নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক।
ডিবি কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন অভিভাবক প্রতিবেদকের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
অভিযানের ফলাফল কোথায়?
মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু মাদকসহ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করাই শেষ কথা নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, পরিবহনপথ এবং মূল কারবারিদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
গাইবান্ধায় নিয়মিত অভিযান চললেও মাদকের বড় উৎস ও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ছোটরা যদি ধরা পড়েই, তাহলে বড় কারবারিরা অধরা কেন?
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যকে দোষী বলা যায় না। অভিযোগগুলো সত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা পুরো বাহিনীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং মাদক দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার স্বার্থেই এসব প্রশ্ন সামনে আনা হচ্ছে।
গাইবান্ধাবাসীর প্রত্যাশা, ছোট কারবারি বা মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহকারী, বড় কারবারি ও নেপথ্যের চক্রও আইনের আওতায় আসুক।
প্রশ্ন একটাই, মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, কিন্তু মাদকের মূল হোতারা কোথায়?
ক্যাপশন-প্রতীকী ছবি
