
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা:
সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ লক্ষ্যে গাইবান্ধায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি সহায়তার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) গাইবান্ধায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালকের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের মতবিনিময়কালে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
মতবিনিময়ে সহকারী পরিচালক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে সরকারি সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারেন, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরকারি বিধান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার শিকার ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। অন্যান্য নির্ধারিত ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তিদের জন্যও সহায়তার বিধান রয়েছে। তবে সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রচলিত বিধিবিধানের ওপর নির্ভরশীল।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো গাইবান্ধা জেলাতেও সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য এ সরকারি সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্ঘটনার পর অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তার সুযোগ, আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
বিআরটিএর প্রচারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সঙ্গে দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও নির্ধারিত ফরম বিআরটিএর ওয়েবসাইট www.bsp.brta.gov.bd থেকে সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেওয়া যায়।
মতবিনিময়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে সড়ক দুর্ঘটনার পর সরকারি সহায়তার সুযোগ থেকে তথ্যের অভাবে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উঠে আসে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চালক, যাত্রী, পথচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। শুধু দুর্ঘটনার পর সহায়তা প্রদান নয়, বরং ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নিরাপদ যানবাহন চলাচল এবং দায়িত্বশীল সড়ক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।
গাইবান্ধায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালকের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের এ মতবিনিময় সরকারি সেবার তথ্য প্রচার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গাইবান্ধাসহ সারা দেশে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তার তথ্য যথাসময়ে পৌঁছাবে।
