মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা:
সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন,ভাতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি, অন্যদিকে এই বিপুল অর্থের জোগান কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এই অর্থের সংস্থান করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বাড়তি রাজস্ব আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর নামে যদি ভ্যাট, শুল্ক কিংবা অন্যান্য পরোক্ষ করের চাপ বাড়ানো হয়, তাহলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত করের ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ, বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর।
গাইবান্ধার মতো কৃষিনির্ভর জেলার মানুষের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উপকরণ, জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি যেমন প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই শুধু করের চাপ বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ের চেষ্টা না করে কর ফাঁকি বন্ধ, করজাল সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
এখানে সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে,
নবম পে স্কেলের বাড়তি অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে?
রাজস্ব আদায়ের চাপ কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেট থেকে আসবে?
বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কার্যকর ব্যবস্থা নেবে?
মনে রাখতে হবে, সরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সেই বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগাতে গিয়ে যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হবে।
সরকারের কাছে প্রত্যাশা, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক। কারণ, রাষ্ট্রের কোষাগার পূর্ণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট যেন শূন্য না হয়ে যায়।
