
আবুল হাশেম
রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ, ইভটিজিং, চোরাচালান ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বাঘা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বাঘা থানা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মো. মামুন আর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খালিদ হাসান এবং বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক।
সভায় বাঘা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন, রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, বাঘা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মওলানা আব্দুল আল মামুন, সাবেক বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য মওলানা জিন্নাত আলী এবং রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামিম সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় বাঘায় মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে। সীমান্তপথে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকের বিস্তারে তরুণ ও যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে হ্যাকিংসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের প্রবণতা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের আশায় উঠতি বয়সী অনেক তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও চোরাচালান বন্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডিআইজি আরও বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার নাম-পরিচয় জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মো. মামুন আর রশিদ বলেন, পুলিশ আগের চেয়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অপরাধীদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সভায় বক্তারা বাঘা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
