
স্বাস্থ্য ডেস্ক:
লিভার মানবদেহের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন, হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীরকে সুস্থ রাখতে লিভার প্রতিনিয়ত কাজ করে যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিভারজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন—লিভার নষ্ট হওয়ার আগে শরীর বেশ কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখায়, যেগুলো অবহেলা করলে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা লিভারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। খুব কম কাজেই হাঁপিয়ে ওঠা, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব—এসবকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে গেলে পরবর্তীতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি হজমের সমস্যা, খাবারে অনীহা, বমি বমি ভাব, ও পেট ফাঁপা লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আরেকটি সাধারণ লক্ষণ।
তবে সবচেয়ে গুরুতর ইঙ্গিত হলো ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া, যাকে জন্ডিস বলা হয়। এর সঙ্গে যদি প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয়ে যায় এবং পায়খানা ফ্যাকাসে দেখায়, তবে তা লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত।
চিকিৎসকরা জানান, লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পেটে তরল জমে পেট ফুলে ওঠে। হাত-পা ফুলে যাওয়া, ত্বকে চুলকানি, সামান্য আঘাতেই নীল দাগ পড়ে যাওয়া—এসবও উপেক্ষা করার মতো লক্ষণ নয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা দেখা দেয় যখন রোগীর মনে বিভ্রান্তি, ভুলে যাওয়া, কিংবা ব্যবহারগত পরিবর্তন দেখা দেয়; চিকিৎসা বিজ্ঞানে যাকে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি বলা হয়।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন—এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT), আল্ট্রাসাউন্ড এবং ফাইব্রোস্ক্যানের মতো পরীক্ষায় লিভারের অবস্থা জানা যায়। পাশাপাশি অ্যালকোহল, অতিরিক্ত তেল-চর্বি, জাঙ্ক ফুড ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পূর্বশর্ত।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়—
“লিভার নষ্ট হওয়ার আগে শরীর নিজেই সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলো বুঝে ব্যবস্থা নিলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।”
