
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলোচিত কন্ঠের প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহফুজ আলম।
ওসি জানান, ২ নং আসামী আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের এখনো ট্রেস করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ভুক্তভোগী মোছাঃ রুমানা আক্তার জাহান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন- ১। মোঃ ফরিদুল ইসলাম (৩২), ২। মোঃ আবু সাঈদ (৩৬) ও ৩। মোঃ মঈন মাইঠুর (৩৪)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রুমানা আক্তার জাহানের স্বামী আল-আমিন মীর মালয়েশিয়া প্রবাসী।
তিনি গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বুজরুক বোয়ালিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তার শিশু কন্যা গোবিন্দগঞ্জ ডাকবাংলোর পিছনে অবস্থিত লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সন্তানকে মাদ্রাসায় আনা-নেওয়ার সুবাদে ১ নং আসামি ফরিদুল ইসলামের সাথে তার পরিচয় হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরিচয়ের সুযোগে ফরিদুল কৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও মোবাইল ফোনে স্ক্রিন রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। পরে ওই ভিডিও তিনি তার সহযোগী আবু সাঈদ ও মঈন মাইঠুরের কাছে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৯ অক্টোবর আসামিরা তাকে কৌশলে লালমাটিয়া মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ভিডিও দেখিয়ে টাকা দাবি করে। মান-সম্মানের ভয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার দিতে বাধ্য হন।
সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর বিকালে ফের ৫২ হাজার টাকা দাবি করে ডাকবাংলো এলাকায় ডেকে নিলে স্বজনদের সহায়তায় তাদের ধরার চেষ্টা করা হয়। এসময় আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আবু সাঈদকে আগামীকাল অর্থাৎ ২৬/১০/২৬ ইং তারিখে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
