
স্বপন কুমার রায় খুলনা ব্যুরো প্রধান
খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান করার) বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সিজারিয়ান অপারেশনসহ জরুরি প্রসূতি সেবা পেতে রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিক বা খুলনা সদরে যেতে হচ্ছে।
১৯৭৩ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও পূর্ণাঙ্গ জনবল পাওয়া যায়নি। ২১৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৫ জন কর্মরত থাকলেও ৯১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৪১টি পদের মধ্যে ২২টিই ফাঁকা। বিশেষ করে চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি, প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া) এবং সহকারী সার্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি রয়েছে। এছাড়া রেডিওগ্রাফার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের পদ শূন্য থাকায় এক্স-রে এবং আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দাকোপ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রামপাল, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার রোগীরাও এখানে সেবা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন থেকে সাড়ে তিনশ এবং জরুরি বিভাগে ৭০-৮০ জন রোগী আসেন। হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককে বারান্দা ও মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়েদুজ্জামান গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকার কথা স্বীকার করে জানান, সীমিত জনবলের মধ্যেও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
