জকিগঞ্জ, সিলেট প্রতিনিধিঃ
সরকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক, তাই তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। তবে একজন সচেতন নাগরিক এবং শিক্ষক হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনা বা সুপরামর্শ দেয়াটাও আমাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। সম্প্রতি একটি বিষয় আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে— “বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।” এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক সমাজ যে চরমভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর সপক্ষে আমি আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি: একদিন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের রুমে বসে ছিলাম। তিনি দপ্তরিকে চা আনতে বললেন।
এমন সময় কমিটির সভাপতি সেখানে উপস্থিত হলেন। দপ্তরি সভাপতিকে খেয়াল না করে আগে আমার সামনে চা দেয়ায়, সভাপতি প্রকাশ্যেই প্রধান শিক্ষককে উচ্চস্বরে ধমকাতে শুরু করলেন! একজন উচ্চশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকের সাথে এমন আচরণ দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। আমি প্রতিবাদ করে বলেছিলাম— চা এনে দেয়া প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নয়। কেন সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা জরুরি? মার্জিত আচরণ: একজন শিক্ষিত সভাপতি জানেন একজন শিক্ষকের মর্যাদা কতটুকু। তার কথাবার্তা ও আচরণ হবে অনুকরণীয়।
সঠিক পরামর্শ: ম্যানেজিং কমিটির কাজ হলো পরামর্শ দেয়া ও সহযোগিতা করা। অশিক্ষিত ব্যক্তি কীভাবে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শ দেবেন? উন্নয়নমুখী চিন্তা: শিক্ষিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের ভৌত ও গুণগত মানোন্নয়নে আধুনিক চিন্তা করতে পারেন। পক্ষান্তরে, অশিক্ষিত নেতৃত্ব অনেক সময় শুধু প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, যা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে। একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি যখন চেয়ারের প্রভাবে শিক্ষকদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালান, তখন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। শিক্ষার মানোন্নয়ন চাইলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেও শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব থাকা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ ভোমরা শিক্ষকদের আত্মসম্মান রক্ষার্থে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করুন। নিবেদক, সাইফুর রহমান প্রিন্সিপাল, শাহগলী আদর্শ শিশু বিদ্যানিকেতন। বারহাল, জকিগঞ্জ, সিলেট।
