
স্বপন কুমার রায় খুলনা ব্যুরো প্রধান
৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে দাকোপের বানীশন্তা আশার প্রদীপ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে (খেলুরিয়া, বানিশান্তা, দাকোপ, খুলনা) হাম প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি আয়োজনে সহযোগিতা করে ডিজেবিলিটি ইনক্লুশন অ্যাক্টিভিটি (দিয়া)।
বানিয়াশান্তা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক রায় এই সভায় আলোচনা করেন। বর্তমানে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে তিনি সকলকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০–১২ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো দেখা দেয়; যেমন তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশি, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, মুখের ভিতর সাদাটে ছোট দাগ, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ হওয়া।
হাম প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা এবং টিকাদান। বাংলাদেশ সরকারের ইপিআই (EPI) কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্দিষ্ট সময়ে এই টিকা দেওয়া হয়।প্রথম ডোজ: শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর ১৫ মাস পূর্ণ হলে সঠিক সময়ে এই দুই ডোজ টিকা নিলে হাম হওয়ার ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
এছাড়া তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আসুস-এর নির্বাহী পরিচালক পরিতোষ কুমার মৃধা বলেন, হামের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত তরল খাবার, পানি এবং সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত, যাতে শরীর দুর্বল না হয়ে পড়ে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ৩০ জন নারী, আসুস-এর প্রোগ্রাম অফিসার সৌমিত্র চক্রবর্তী এবং উপজেলা ভলান্টিয়ার স্বপ্না মণ্ডল।
সভা সমাপ্ত হওয়ার পর আসুস-এর বাস্তবায়নাধীন সিএসআই প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ৩০ জন দলিত নারীকে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তাদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ এবং যাতায়াত ভাতা (৬০০ টাকা) প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন: দাকোপ উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব রেজাউল করিম উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব সেলিম রেজা
