
রাকিব হোসেন ঢাকা:
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আর্থিক অনিয়ম, লাইসেন্স বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাক্তি, সাবেক খাত-সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসকল অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে টেলিযোগাযোগ খাতে।
প্রাপ্ত নথি, একাধিক সূত্র ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ’ কোটি টাকার অনিয়ম, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতারণা এবং অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। নাম উঠে এসেছে বেসিস-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, মঈন উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সিং শাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাহিদুল হাসান ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও টেলিটকের পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলামের মতো খাত সংশ্লিষ্ট অনেক নেতৃত্ববৃন্দের।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে সৈয়দ আলমাস কবির ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সহ বিভিন্ন সাবেক রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে অনুমোদন ছাড়াই ইন্টারনেট সেবা পরিচালনা এবং সম্পদ দখল করেন। পাশাপাশি কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণের বিতর্কিত প্রস্তাব রাখা আওয়ামী লীগের দোসর সৈয়দ আলমাস কবির জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার অভিযোগ মামলাসহ অতীতের বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গ্রেফতার হলেও পূর্ববর্তী প্রশাসন তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন প্রদান করে।
প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র অনুযায়ী, মঈন উদ্দিন আহমেদের নামও সৈয়দ আলমাস কবিরের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে এছাড়া প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে জানা যায়, সৈয়দ আলমাস কবির এবং মঈন উদ্দিন আহমেদ পূর্বে একটি আইএসপি-এর সাথে যুক্ত ছিলেন মালিকানা কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ন্ত্রক সংস্থার যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন পেয়েছে কি-না সে বিষয়ের স্পষ্টতা না রেখেই পূর্ববর্তী আইএসপি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম জোরপূর্বক দখল করে “রেড ডাটা”-এর আইএসপি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘন, মালিকানা বিরোধ এবং নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ভঙ্গের প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযুক্তগণ উভয়েই নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মে জড়িত থাকার পাশাপাশি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বর্তমান সরকারের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে অর্থ পাচারের মতো আরও দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ডের সাথে এখনও জড়িত।
একাধিক সূত্রের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর অংশ, যেখানে প্রভাবশালী গোষ্ঠী লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। অভিযুক্ত সৈয়দ আলমাস কবির ও মঈন উদ্দিন আহমেদ-এর সহযোগী হিসেবে টেলিযোগাযোগ খাতের বেশ কিছু কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে সম্পৃক্ত। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও টেলিটকের পরিচালক মো: জহিরুল ইসলামকে এই বলয়ের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করে মূল মালিকানা সংশ্লিষ্টদের চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তরে বাধ্য করে থাকেন। টেলিযোগাযোগ খাতের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, মো: জহিরুল ইসলাম প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের ছত্রছায়ায় ছিলেন ও বর্তমান সরকারের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করছেন।
এছাড়া, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলেও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এখনও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুগত কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সিং শাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাহিদুল হাসানকে ঘিরেও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কমিশনে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, মো: জহিরুল ইসলাম ও নাহিদুল হাসানের মতন কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত এই ছায়া প্রশাসন এর ফলে সরকারের সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে ও জনস্বার্থ বিঘ্নিত করবে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেমন বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন পাশাপাশি পুরো টেলিযোগাযোগ খাত একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের আড়ালে চলে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে কোটি কোটি আর্থিক আত্মসাৎ, নিয়ম লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা ও নানা সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কিংবা কোনো প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পরিচালিত হওয়ার কথা। শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল, আর্থিক জরিমানা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের অনিয়ম দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের
স্বচ্ছতা, ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইএসপি-কে ব্যবসায়িকভাবে ধ্বংসের চেষ্টার পাশাপাশি সৈয়দ আলমাস কবির, তার সহযোগী মঈন উদ্দিন আহমেদ ও মো: জহিরুল ইসলাম দেশের টেলিযোগাযোগ খাত সর্বোপরি তারা ফ্যাসিবাদী আওয়া
