
নাটোর জেলা প্রতিনিধি: বিপ্লব তালুকদার
একটি নবজাতকের মৃত্যু। এরপর মুহূর্তেই শোক রূপ নেয় ক্ষোভে। সেই ক্ষোভের জেরে নাটোর শহরের আলাইপুরে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (ম্যাটারনিটি হাসপাতাল)-এ ঘটে ভাঙচুর চিকিৎসকের ওপর হামলা এবং চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার ঘটনা। কয়েকদিনের অভিযানের পর অবশেষে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোর সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুর পর স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া এক চিকিৎসকের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. শাহাবুজ্জামান বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় সরকারি কাজে বাধা ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এরপর জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় মামলার প্রধান আসামি মো. সাকিব তরফদারকে নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা খাঁপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসকদের অবহেলা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি জন্মের আগেই মারা গিয়েছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
নাটোর পুলিশ মিডিয়া সেল জানিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া এ ঘটনা শুধু একটি হাসপাতাল নয় বরং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা রোগী-স্বজনের আস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।
