


বিপ্লব তালুকদার:নাটোর জেলা প্রতিনিধি
রাতভর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলেন মাছ চাষি রনি মন্ডল। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই তার সামনে ভেসে ওঠে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য। যে পুকুরে তিনি দীর্ঘদিনের শ্রম সময় ও পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন সেই পুকুরজুড়ে ভেসে উঠেছে শত শত মৃত মাছ। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে প
ড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার গাড়াবাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোররাতে ঘটে এ ঘটনা। পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় উপজেলার গাড়াবাড়ি গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে রনি মন্ডল প্রায় এক একর আয়তনের একটি লিজ নেওয়া পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। বুধবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সকালে পুকুরে গিয়ে দেখেন প্রায় সব মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে।
ঘটনার পর পুকুরের পানিতে এক লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ‘শাহিন ৫৫ সিসি’ কীটনাশকের খালি বোতল ভাসতে দেখা যায়। এতে স্থানীয়দের ধারণা পরিকল্পিতভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করেই মাছ নিধন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ ও মিলন হোসেন বলেন, পুকুরে কীটনাশকের বোতল পাওয়া যাওয়ায় এটি দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত রনি মন্ডলের দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই গ্রামের প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে পুকুরটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময় তাকে পুকুর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ সেই হুমকিরই বাস্তব রূপ হলো এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা।
তিনি বলেন আমার সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও আমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় তিনি সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক রাতের ব্যবধানে একটি পরিবারের স্বপ্নশ্রম ও বিনিয়োগ যেন পানিতে ভেসে গেল। এখন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
