
আবুল হাশেম
রাজশাহী ব্যুরোঃ
পলাশী ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাহাঙ্গীর আলম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। অভিভাবকদের সচেতন করা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। স্কুলের পাঁচিল নির্মাণ থেকে শুরু করে খেলার মাঠ সংস্কার—তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভূমিকা এলাকাবাসী কাছ থেকে দেখেছে।
কিন্তু এখন এলাকাবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন জাহাঙ্গীর আলমকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদ থেকে বাদ দেওয়া হলো?
শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কথা বলাই কি তাঁর অপরাধ ছিল?
জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, তাঁর সক্রিয়তা ও ভূমিকার কারণে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানতে চান, তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ বা অযোগ্যতার কারণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে জানানো হচ্ছে না কেন?
এলাকাবাসীর আরও প্রশ্ন—চকরাজাপুর ইউনিয়নে যোগ্য কোনো ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন সারেরহাট এলাকার একজনকে এনে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করতে হলো? হেডমাস্টারের বাড়ি সারেরহাটে এবং নতুন সভাপতির বাড়িও সারেরহাটে—এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশেষ কারণ বা সমন্বয় রয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এলাকাবাসীর দাবি, জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে পরিষ্কার করা হোক। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক এবং অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হোক।
এলাকাবাসী বলছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত পদ-পদবির বিষয় নয়। বিষয়টি পলাশী ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানতে চায়—যিনি শিক্ষার জন্য কাজ করলেন, তাঁকেই কেন বাদ দেওয়া হলো?
এই প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর সামনে আসা উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
