
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক এলাকা। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পলাশবাড়ী থানা দিয়ে একদিকে গাইবান্ধার আঞ্চলিক সড়ক এবং অন্যদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট হয়ে বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় মাদক কারবার, চুরি-ছিনতাই, অনলাইন জুয়া, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মারামারি ও পারিবারিকসহ নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। এর পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবেও পলাশবাড়ীর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি, পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং স্থানীয় বিরোধের কারণে যেকোনো সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এমন একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সারোয়ার আলম খান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে থানা পুলিশের টিমকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে দল-মত নির্বিশেষে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন ওসি সারোয়ার আলম। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সংঘাত যাতে বড় আকার ধারণ না করে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
পলাশবাড়ীর গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। থানার নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান। অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় দৈনিক আলোচিত কন্ঠের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলম খান বলেন, পলাশবাড়ী গাইবান্ধা জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থানা। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এ থানায় দায়িত্ব পালন একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা অন্য কোনো বিষয় নয়,আইন সবার জন্য সমান। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
ওসি আরও বলেন, থানার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। স্থানীয় পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পলাশবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর থানায় একজন থানাপ্রধানের দায়িত্ব কেবল অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, একই সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় বিরোধে আইনগত হস্তক্ষেপ এবং জনসাধারণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় ওসি সারোয়ার আলম খানের নেতৃত্বে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা বা বাহিনীর সাফল্য নির্ধারণের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
সেই বিবেচনায় পলাশবাড়ীর মতো চ্যালেঞ্জিং থানায় দায়িত্ব পালনরত ওসি সারোয়ার আলম খানের বর্তমান কার্যক্রম অবশ্যই পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের দাবি রাখে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পলাশবাড়ীতে মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশ কাজ করে যাবে।
