
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মোবাইল ফোনের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় চুরি যাওয়া ১৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে এ সাফল্য এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজারে অবস্থিত মুক্তা টেলিকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের উপরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ২৭টি স্মার্টফোন, ১১০টি বাটন ফোন, চার্জার, এয়ারফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর দোকানের মালিক সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,
এ, সার্কেল, গাইবান্ধার সহযোগিতায় সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গাইবান্ধা সদর থানাধীন হকার্স মার্কেটে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চুরি যাওয়া ৯টি স্মার্টফোন ও ৯টি বাটন ফোনসহ মোট ১৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার শ্রী গৌর চন্দ্র বিশ্বাস (৩৯) এবং মধ্য-ফলিয়া (পুলবন্দি) এলাকার মোঃ সুজন মাহামুদ (৪০)
কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তি ব্যবসায়ীদের
চুরির ঘটনার পর দ্রুত মামলা গ্রহণ, তদন্তে অগ্রগতি এবং চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করায় সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সার্বিক তদারকি ও পুলিশের পেশাদার তদন্ত কার্যক্রমের ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া মোবাইলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুন্দরগঞ্জ থানার কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) মোঃ জুলিয়াস রহমান।
