
মোঃ সাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
আজ মঙ্গলবার (২৩শে সেপ্টেম্বর) নীলফামারী জেলা কমান্ড্যান্ট অফিসে সকাল ১০টায় জেলা কমান্ড্যান্টের উদ্যোগে অত্র জেলার ৬টি উপজেলায় একযোগে কলেজ ভিত্তিক ভিডিপি/টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ- ১ম ধাপে একটি বিশেষ সেশনে ৪শত জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে ৪শত টি বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ভেষজ চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে গৃহীত এ কর্মসূচিকে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
উক্ত জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্মানিত মহাপরিচালক মহোদয়ের দৃঢ় অবস্থান ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলায় প্রশিক্ষণার্থীদের গাছের চারা তুলে দেন রংপুর রেঞ্জের সম্মানিত রেঞ্জ কমান্ডার উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, বিভিএম, পিভিএমএস মহোদয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মিজানুর রহমান, পিভিএম ও মোঃ সোহেল রানা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, সহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা
উপজেলা প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকাবৃন্দ। প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে তাঁদের প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
চারা হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগের সৃষ্টি হয়। তাঁরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গিয়ে তাঁরা প্রাপ্ত চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করবেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনগণকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তাঁদের হাতে একটি চারা তুলে দেওয়া হলেও এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর একটি বড় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, আজকের এই ছোট্ট চারাটিই আগামী দিনে একটি বড় গাছে পরিণত হয়ে মানুষকে ছায়া, ফল ও নির্মল বাতাস প্রদান করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং জনকল্যাণমূলক চেতনার এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে, যা সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
