
মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল
ভোলা জেলা প্রতিনিধি।।
ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে আজ সকালে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম হলো—যে মানুষটি সারা জীবন সংবাদ লিখেছেন মানুষের গল্প নিয়ে, সেই মানুষের বিদায়কে কেন্দ্র করে আজ মানুষই লিখে দিলো ইতিহাস। প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার কণ্ঠ–এর সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হাবিবুর রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ।
সকাল ১১টায় গার্ড অব অনার দেওয়া হলে পুরো মাঠ যেন থমকে দাঁড়ায়। এমন নীরবতা ভোলার মানুষ বহুদিন দেখেনি। সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মানবিকতার যে ত্রিভুজে দাঁড়িয়ে তিনি জীবন কাটিয়েছেন—আজ তার প্রতিটি স্মৃতি দর্শকদের হৃদয়ে স্পর্শ করে যায়।
জানাজাস্থলে এক বৃদ্ধকে দেখা গেল হাঁটতে হাঁটতে এসে ভিড়ে দাঁড়াতে। প্রশ্ন করলে তিনি বলেন—
“হাবিব ভাইয়ের কাছে কখনো যাইনি সাহায্যের জন্য, কিন্তু তার লেখা পড়ে অনেক শক্তি পেয়েছি। আজ তাকে শেষবার দেখতে এ-ই তো আমার আসা।”
এই একটি বাক্যই যেন বলে দেয়, তিনি শুধু সংবাদকর্মী ছিলেন না—ছিলেন মানুষের আশার ভাষা।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতারা, সাংবাদিক সংগঠন, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ। সবাই যেন এক সুরে বলছিল—শান্তিতে ঘুমান, আমাদের আদর্শ মানুষ।
গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর BSMMU হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বরেণ্য সাংবাদিক। মৃত্যুর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শোক, স্মৃতি আর কৃতজ্ঞতার স্রোত। সহকর্মীরা লিখেছেন—
“তিনি ছিলেন ভোলার সাংবাদিকতার আস্থার জায়গা। তার হাতে লেখার কলম ছিল সত্যের পক্ষে এক নির্ভীক অস্ত্র।”
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি শুধু সংবাদ পরিবেশন করেননি; গড়ে তুলেছেন ভোলার গণমাধ্যমের পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ। তার সততা, নিঃস্বার্থতা ও কর্মনিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে পথনির্দেশ।
জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের চোখেই দেখা যায় অশ্রু—যেন ভোলার আকাশও নীরবে সাক্ষী ছিল এই বিচ্ছেদের।
মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল
—
