
মোঃ ওসমান গনি ইলি, কক্সবাজার:
ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী এলাকায় পরিবেশ আইন অমান্য করে ফসলি জমির উর্বর মাটি ও আশপাশের নালাচর–নদীতীরের মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট এসব মাটি দিয়ে ভরাট করছে কোটি টাকার জায়গা-জমি। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীতীর ধ্বংসসহ পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দিনের বেলা ও রাতের আঁধারে ডাম্পার, ট্রলি ও লরি দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকার ভৌগোলিক গঠন বদলে যাচ্ছে এবং নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০১২) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল, প্রাকৃতিক টিলা, পাহাড় বা নদীতীরের মাটি কাটার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তির দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুই বছরের কারাদণ্ড এবং প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট থাকলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
আইন থাকা সত্ত্বেও পোকখালী এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা থামছে না। পরিবেশবিদরা বলছেন—এভাবে চলতে থাকলে এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নদীতীর ভাঙনসহ পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
