
আবদুর রহমান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আশার জন্য নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে সংঘাত বন্ধে কম্বিং অপারেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষি উৎপাদন, সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সভার শুরুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বলেন, নরসিংদীতে রায়পুরা উপজেলা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এখানে সন্ত্রাসীদের আড্ডা অনেক বেশি এবং হাতিয়ার রয়েছে। এজন্য যৌথবাহিনীর সমম্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য করতে বর্তমান সরকার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু বস্তুবায়নের দায়িত্ব মাঠ প্রশাসনের। তিনি বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করে বর্তমান সরকার।
এ সময় কৃষি বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সামনে বোরো মৌসুম শুরু হবে। সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নরসিংদীতে সবজি ও ফল-ফলাদি উৎপাদনে চাষিদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, নরসিংদীর চাষিরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর পরিমাণ সবজি ও ফল-ফলাদি উৎপাদন করে এবং তা বেশির ভাগ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। শীতকালীন সবজি শেষ হয়ে যাবার পর গ্রীষ্মকালীন সবজি আসার জন্য প্রায় এক মাসের মতো একটি সময় থাকে। এই সময়টায় সবজির দাম বেড়ে যায়। আবার শীতের শেষ সময় সবজির দাম অনেক কমে যায়, যার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষক যেন তার উৎপাদিত সবজিটা সংরক্ষণ করতে পারে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য আমরা মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করছি।
জেলার কৃষি কর্মকর্তাগণ খেয়াল রাখবেন সারের ডিলাররা যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি না করে। একদিনের মধ্যে পিয়াজের দাম ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি। আবার পিয়াজের দাম ৭০ টাকার কম হলেও কৃষক ক্ষতির মধ্যে পড়বেন- সবদিকেই সমন্বয় করেতে হবে।
এর আগে সকালে তিনি পুলিশ লাইনে বৃক্ষরোপণ করে পুলিশ লাইন হাসপাতাল, রেশন স্টোর, পুলিশের রান্না ঘর, খাবার মান, খেলার মাঠ, পুকুর ও পুলিশের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পরে তিনি জেলা কারাগারে যান এবং বন্দিদের খোঁজখবর নেন।।
জেলখানা ও কারাগার পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হলে সব কয়েদি পালিয়ে যায়, অস্ত্র লুট হয়। পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে অনেকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে, আবার অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলখানায় লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, ৬২ বিজিবি গাজীপুর ব্যাটালিয়ন লে. কর্নেল ইকতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুকসহ অনেকে।
