
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বন ও অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহনের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলায় মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ ৪৭টি বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (০৯/০১/২৬) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা পরীক্ষাকালীন গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
পরীক্ষাকালে সদর উপজেলার ৩৭টি কেন্দ্র থেকে ৩৭জন ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৪টি কেন্দ্র থেকে ১২ জন ও ফুলছড়ি ২ টি কেন্দ্র থেকে ২ জনকে আটক করে পুলিশ।কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
আটকদের মধ্যে জেলার সদর উপজেলার আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুইজন, সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে চারজন, গাইবান্ধা খানকা শরীফ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে নারীসহ তিনজন, চাপাদহ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, কুপতলা আব্দুল কাউয়ুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১৩ জন, লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে একজন ও আরো কয়েকটি কেন্দ্র ১৪ জন এবং পলাশবাড়ীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ১২ জন ও ফুলছড়ি ২ টি কেন্দ্র থেকে ২ জনকে আটক করা হয়।
এছাড়া চার পরীক্ষার্থীদের কানে অত্যধুনিক ব্লুট্রুথ ডিভাইস কানের ভিতরে প্রবেশ করলে পরে সদর হাসপতালে গিয়ে তা চিকিৎসকের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন ও নিষিদ্ধ ডিভাইস বহনের অভিযোগে মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এসময় পরীক্ষা চলাকালে তাদের কাছ থেকে ৪৭টি ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আটকদের সবাই গাইবান্ধা সদর থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন এবং পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে শুরু থেকেই প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে প্রবেশের সময় তল্লাশি করা হয়েছে এবং পরীক্ষা চলাকালেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলার ৪০০টির বেশি শুন্য পদের বিপরীতে ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন ২২ হাজার ১৯৭ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৫৩১ জন। এসব পরীক্ষার্থীদের জন্য গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
