
বদরুদ্দোজা প্রধান,পঞ্চগড়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, দেশের বাইরে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের সময় শেষ। এখন সিদ্ধান্ত নেবে দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সকাল থেকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামত শোনেন সারজিস আলম।
বক্তব্যে তিনি বলেন, বাইরে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আর চলবে না। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন সচেতন ও সংগঠিত। প্রয়োজনে তারা মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এ দেশের জনগণের।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, প্রশাসনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এমন একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, পঞ্চগড়সহ সারা দেশের তরুণরা অতীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও তারা অন্যায়ের পক্ষে নয়, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন—আগামী বাংলাদেশ কারা গড়বে? যারা ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও হয়রানির রাজনীতি করেছে, নাকি যারা ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা বলেছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রশাসন থেকে শুরু করে সব স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ এবং জনগণের সঙ্গে ন্যায়ভিত্তিক আচরণ নিশ্চিত করা হবে।
ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে সারজিস আলম বলেন, সাধারণ মানুষের সাড়া স্পষ্ট। ভোটাররা প্রকাশ্যে কম কথা বললেও ভোটের দিন ব্যালটেই তাদের অবস্থান জানিয়ে দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে শুধু পঞ্চগড়-১ নয়, সারা দেশেই ১১ দলীয় জোটের শক্ত অবস্থান তৈরি হবে।
এ সময় বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই প্রশাসনের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এটিকে তিনি ‘ব্লেম গেম’ বলে মন্তব্য করেন।
গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, এনসিপির কর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২৬
