কক্সবাজারে সাংবাদিকদের নিরাপদ অভিবাসন কর্মশালা সম্পন্ন।

মোঃ ওসমান (গনি) কক্সবাজার:
কক্সবাজারে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক তথ্য প্রদান, দালালচক্রের প্রতারণা প্রতিরোধ এবং বিদেশগামী কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও প্রবাসী কল্যাণ শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুর রহমান সায়েম। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন বাহারী এবং কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন বাহারী বলেন,জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে জনগণের শিক্ষার মান উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারলে বিদেশে কর্মী রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকবে।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, “অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসনের ক্ষেত্রে যারা প্রতারিত হয় তাদের সচেতন করতে এনজিওর পাশাপাশি সরকার ও সাংবাদিকদেরও নিয়মিত এমন কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত। এতে সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে।
তিনি আয়োজকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা অনাড়ম্বরভাবে হলেও আরও বেশি করে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করুন। এতে দিনশেষে জনগণই উপকৃত হবে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন,প্রত্যাশী যে উদ্দেশ্যে আজকের কর্মশালা আয়োজন করেছে, সাংবাদিকরা যদি তাদের দৈনন্দিন প্রতিবেদনে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে প্রচার করেন এবং নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা তৈরি করেন, তাহলে কক্সবাজারের অভিবাসনের সার্বিক চিত্র উন্নত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে তথ্যের অভাব। তথ্য না থাকার কারণে দালালরা সহজেই মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন,গত মাসে আমার এক মামা মারা যাওয়ার ঘটনায় আমি সরকার ঘোষিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সেবাসমূহ সম্পর্কে জানতে পারি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এই তথ্যের ঘাটতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে। মামার দুর্ঘটনা না ঘটলে হয়তো আমিও এসব জানতাম না। তথ্যের অভাবেই দালালচক্র সহজে মানুষকে মিসগাইড করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “অপতথ্য থেকে রক্ষা পেতে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যদি সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সচেতন হবে এবং প্রতারণা কমবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার, এনজিও, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তথ্যভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করা গেলে বিদেশগামী কর্মীরা প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন এবং বৈধ অভিবাসনের হার বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা জানান, আমরা চেষ্টা করবো আমাদের সবার হাত দিয়ে যতজন মানুষ ততজন হাত দিয়ে মানবকল্যাণ ও প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ কর্মশালা নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও কার্যকর করবে এবং কক্সবাজার জেলায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
