
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুল গণি মিয়া এবং তার পুত্র, নিজেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পরিচয়দানকারী আব্দুল মোনায়েম।
শনিবার দুপুরে স্থানীয় চলনবিল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিয়াঘাট গ্রামের নাজিম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ, বাহারুল ইসলাম এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী।
ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩০ লাখ টাকা নেন মোনায়েম। টাকার বিপরীতে তার পিতা গণি মিয়ার দেওয়া একটি চেক (হিসাব নম্বর: ৪৯০৬০০২০৩২৬২৮) ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়।
এছাড়া মাওলানা ইউনুস আলীর কাছ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরির কথা বলে ১ লাখ টাকা এবং চাঁচকৈড় বাজারের কাজী আব্দুল্লাহর কাছ থেকে লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৯৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, শিকারপুর এলাকার বাহারুল ইসলামের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকে চাকরির কথা বলে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং আব্দুর রশিদের কাছ থেকে পূর্বের ধার নেওয়া ৭৫ হাজার টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
চাঁচকৈড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মিঠু প্রামাণিক জানান, তাকে লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা আর যোগাযোগ করেননি।
তবে অভিযুক্ত আব্দুল মোনায়েম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। চেক সংক্রান্ত বিষয়টি মাদ্রাসার সমিতির লেনদেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের মানহানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
