কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী জনপদ কানাইঘাট থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামী গ্রেফতার, মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম। তিনি থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং থানার সার্বিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওসি আমিনুল ইসলাম কানাইঘাট উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ সফলতা অর্জন করেছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার প্রতিটি বিট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সীমান্তবর্তী এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এতে অপরাধীদের চলাচল অনেকাংশে কমে এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে মাদক বিরোধী অভিযানে কানাইঘাট থানা পুলিশের ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, দেশীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে তরুণ সমাজ অনেকটাই অনলাইন জুয়া ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কানাইঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশের অভিযোগ পাওয়া গেলেও বর্তমান ওসির নেতৃত্বে চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, চিনি,জিরা চা পাতা, কাপড় ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানের ফলে চোরাকারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। এছাড়াও সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে ওসি আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনসাধারণের সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাত্রীকালীন টহল বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশি নজরদারি জোরদার এবং জনগণের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কারণে থানার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ অভিযান ও মোটরসাইকেল টহল জোরদার করায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, বর্তমানে কানাইঘাট থানা পুলিশের কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান। থানায় সাধারণ মানুষ গেলে আগের তুলনায় দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত কার্যক্রম এবং আইনগত সহায়তায়ও আন্তরিকতা বেড়েছে বলে তারা মনে করেন। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান ওসির আন্তরিকতা ও কঠোর মনোভাবের কারণে থানার সার্বিক পরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধ দমন করা বাংলাদেশ পুলিশ- এর প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, কানাইঘাট উপজেলাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
