

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং মির্জা পরিবারের মধ্যে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ। তাঁদের অভিযোগ, দলের কিছু নেতাকর্মীর বক্তব্য ও তৎপরতার কারণে বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যাকে সমর্থন দেবেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা তাঁর পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের মধ্যে।
তবে সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার বক্তব্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন নাম সামনে আসায় দলের তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। কোনো কোনো নেতা সমারু মির্জা-র নাম উল্লেখ করছেন, আবার কেউ কেউ মির্জা ফয়সাল-কে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য দলীয় সিদ্ধান্তের আগে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত পছন্দ বা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে তুলে ধরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া থেকে সিনিয়র নেতাদের বিরত থাকা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁকে ঘিরে কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো ধরনের বিভাজনমূলক প্রচারণা বা বক্তব্য যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে এবং মনোনয়ন ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই সবাই মেনে চলবেন। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতারা দায়িত্বশীল ও সমন্বিত বক্তব্য দেবেন, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
তাঁদের মতে, দলের স্বার্থ, ঐক্য ও ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
