
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধাঃ
অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়মতো তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব কার্যক্রমে পুলিশের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন থানার সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েশ।
এর সর্বশেষ উদাহরণ পাওয়া যায় বুধবার রাতে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম চারমাথা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক নারীকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি মাদক উদ্ধারের অভিযান নয়, বরং মাদকের সরবরাহ ও পরিবহন ঠেকাতে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতারও একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের ভেতরেও ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই, দ্রুত টিম প্রস্তুত করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সক্রিয়তা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে থানার ওসি মোজাম্মেল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে এই দুই দিককে সমন্বয় করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ফলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থাও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো একটি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা। সেই জায়গায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এবং সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েছে সহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়তায় মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রয়চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে গোবিন্দগঞ্জে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও দৃশ্যমান সাফল্য আসবে।
