মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাসভবনের বাথরুম থেকে হাবিবুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার পর কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালন শেষে হাবিবুর রহমান পুলিশ সুপারের বাসভবনের একটি বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বাথরুমের দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাথরুমের ওপরের একটি রডের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনার বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এসপি বলেন, বাথরুমের রডের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় হাবিবুর রহমানের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বাথরুমের ভেতরে রাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফোনটি এমনভাবে রাখা ছিল, যাতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় ভিডিও কল চালু থাকতে পারে।
তিনি বলেন, হাবিবুর রহমান কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে তার দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে। এ কারণে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান গত ১২ আগস্ট থেকে পুলিশ সুপারের বাসভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে গাইবান্ধা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেন।
নিহত পুলিশ সদস্যের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার বাবুপাড়ায়। তার বাবার নাম মো. মিন্টু মিয়া।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তার মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, কিংবা ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও কল চালু থাকার সম্ভাবনা, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে আসা এবং পুলিশ সুপারের বাসভবনের বাথরুমে ঘটনাটি ঘটায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব প্রশ্নের কোনো বিষয়কেই নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।
ক্যাপশন- মৃত পুলিশ সদস্য হাবিবুর রহমান এবং পুলিশ সুপার গাইবান্ধার বাসভবনের মূল ফটক।
