
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের কঠোর অবস্থানের আরেকটি জোরালো প্রমাণ মিলল গাইবান্ধায়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গোঘাট (মাঝিপাড়া) এলাকায় সফল অভিযান চালিয়ে ৯৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শ্রী মিলন চৌধুরী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে র্যাবের চৌকস আভিযানিক দলের তৎপরতায় মিলন চৌধুরীর বাড়ির সামনে নদীর পাড়ের ভাঙনরোধী ব্লকের ওপর তার দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে পাঁচটি কালো রঙের এয়ারটাইট পলিপ্যাকে রাখা ৯৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শ্রী মিলন চৌধুরী গাইবান্ধা সদর থানাধীন গোঘাট (মাঝিপাড়া) গ্রামের শ্রী মেহেলাল চৌধুরীর ছেলে।
গোপন তথ্য থেকে সরাসরি অভিযানে র্যাবের কৌশলী তৎপরতা
র্যাব-১৩ সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোঘাট (মাঝিপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং উপযুক্ত সময়ে অভিযান পরিচালনার সমন্বিত কৌশলেই বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়।
গাইবান্ধা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল হক (রেজা)-এর নেতৃত্বাধীন কমান্ড কাঠামোর ধারাবাহিক মাদকবিরোধী তৎপরতায় এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদকবিরোধী অভিযানে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা র্যাবের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তুলছে। ৯৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের এ অভিযানও তারই একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
পেছনে আরও কেউ? খতিয়ে দেখছে র্যাব
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মিলন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার সঙ্গে মাদক কারবারে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা এই ইয়াবার চালানের পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
র্যাব-১৩ জানায়, এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং উদ্ধার করা ৯৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট গাইবান্ধা সদর থানায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু ইয়াবা উদ্ধারে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িত সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও নেপথ্যের কারবারিদের শনাক্ত করতেও তৎপর রয়েছে র্যাব।
