
মোঃ শরিফুল ইসলাম, লালপুর, নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলার পোকন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত পুরোনো ভবন এখন যেন ‘শ্রমিকমেস’। প্রায় ১৫ দিন ধরে বিদ্যালয়ের ওই ভবনে বসবাস করছেন উত্তরাঞ্চলের জেলা থেকে আসা ১৫ জন শ্রমিক। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুতের লাইট-ফ্যান ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের মাঠে পাট ও পাটখড়ি শুকানোর কারণে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের কক্ষগুলোতে শ্রমিকেরা অবস্থান করছেন। নওগাঁ ও দিনাজপুর থেকে আসা এসব শ্রমিক পোকন্দা গ্রামের প্রভাবশালী কৃষক আবুল মাজমের জমিতে পাট কাটাসহ কৃষিকাজ করতে এসেছেন। তাঁদের জন্য বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ভবনের কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ জুড়ে পাট ও পাটখড়ি শুকাতে দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভবনে গাঁজা সেবন ও বিভিন্ন সময় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় গত মঙ্গলবার ও বুধবার আবুল মাজমের ছেলে রুদ্রের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে রাইদুলের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিন দফায় মারামারি ও আব্দুর রহমানের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এঘটনায় উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বিদ্যালয়ে অবস্থানরত শ্রমিকরা জানান, তাঁদের মহাজন আবুল মাজমই বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাঁরা কক্ষ ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।
আবুল মাজেমের ছেলে রুদ্র বলেন, এলাকায় শ্রমিকের সংকট থাকায় নওগাঁ ও দিনাজপুর থেকে শ্রমিক আনা হয়েছে। বাড়িতে তাঁদের থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিল যত টাকা হবে, তা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। তবে গাঁজা সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে পাট ও পাটখড়ি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের মাঠ দ্রুত দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানাই।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, প্রথম দিন শ্রমিকেরা বিদ্যালয়ের মাঠে পাটখড়ি শুকাতে দিলে তাঁদের নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নিষেধ মানেননি। আর পুরোনো ভবনের কক্ষ ব্যবহারের জন্য স্থানীয় কয়েকজন চাবি চেয়েছিলেন। সে কারণে চাবি দেওয়া হয়েছিল। এটি তাঁর ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ, বিদ্যুৎ ও মাঠ অন্য কারও ব্যবহারের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
