
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার অভিযান অব্যাহত থাকলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রমকে আরও কঠোর, পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যক্রমে আরও নিবিড় নজরদারি ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ের দাবি উঠছে।
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ ও আলোচনা শোনা যায় যে, মাদকবিরোধী অভিযানে আটক বা শনাক্ত হওয়া কিছু মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবী কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, যোগাযোগ কিংবা বিভিন্ন ধরনের তদবিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। এমন অভিযোগও রয়েছে, বিভিন্ন পক্ষের লবিং, তদবির কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযানের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
একই ধরনের অভিযোগ ডিবি পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়ে থাকে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের তদবির বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকে এবং কোথাও কোথাও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে অভিযোগগুলো সত্য হোক বা ভিত্তিহীন হোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ কিংবা অপরাধীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের আড়ালে যাতে কোনো নিরপরাধ কর্মকর্তা বা সদস্যও অযথা প্রশ্নবিদ্ধ না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, বিক্রয়কেন্দ্র ও অর্থের লেনদেনের পথ চিহ্নিত করে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অর্থ লেনদেনের উৎস শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।
গাইবান্ধার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কোনো ব্যক্তি, প্রভাব বা তদবিরের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন হলে অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানো, অভিযোগ যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি এবং অভিযানের ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
মাদক একটি সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এ ক্ষেত্রে অভিযান যেন কেবল সাময়িক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
কাউকে প্রতিপন্ন করা নয়,প্রশ্নটি একটাই
গাইবান্ধাকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কি তাদের অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে পারে না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন আরও কঠোর অভিযান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কোনো ধরনের তদবির বা অনৈতিক প্রভাবের সুযোগ না রেখে আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
