8th
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদান, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে কোথাও কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, জেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে না আসা কিংবা সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকদের অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের বিষয়টি তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই নজরদারি যথেষ্ট নয়। এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, নিবন্ধন, এমপিওভুক্তি এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও বিধিমালা অনুসরণের পরিবর্তে প্রভাব, সুপারিশ কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, সংস্কার, শিক্ষা উপকরণ, বিভিন্ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের মান এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নির্ভর করে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ওপর। কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা বিদ্যালয়ের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর।
সম্প্রতি গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এসব ঘটনায় কোথাও তদন্তের দাবি উঠেছে, কোথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে হঠাৎ পরিদর্শন জোরদার করা, শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য যাচাই, হাজিরা খাতা ও ডিজিটাল উপস্থিতি পর্যালোচনা, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে প্রকৃতপক্ষে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও যাতে ভিত্তিহীন অভিযোগ না থাকে, সেটিও নিশ্চিত হবে।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবে। শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে গাইবান্ধার মাধ্যমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
