
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধাঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া এবং নতুন করে রাস্তা বন্ধের আশঙ্কার প্রতিবাদে গাইবান্ধার ৫ নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্য কুমেদপুর গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শতাধিক গ্রামবাসী ৫ নং বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জাহিদুল ইসলাম, ফিরোজ মিয়া, আঙ্গুর সরকার, রেজাউল করিম, তোতা মিয়া, লিমন সরকার, ফয়জারসহ ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে রাস্তা বন্ধের চেষ্টা এবং গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক চা দোকানদারের সঙ্গে বিরোধের জেরে গ্রামের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমানের মাধ্যমে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটি স্থায়ীভাবে সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
সরেজমিনে রাস্তার বাস্তব চিত্রঃ
আলোচিত কণ্ঠের প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। গ্রামের মূল পাকা সড়ক থেকে হেঁটে অভিযোগকৃত রাস্তাটিতে প্রবেশ করে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে নামার পর একটি বাঁশঝাড় রয়েছে। বাঁশঝাড় পার হয়ে গ্রামের ভেতরের দিকে আরও আনুমানিক ৩০০ মিটার রাস্তা রয়েছে। জায়গাভেদে রাস্তাটির প্রস্থ প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, রাস্তা চলাচলের উপযোগী ও প্রশস্ত করতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নিজেদের জায়গা থেকে স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন। রাস্তার জন্য জায়গা তৈরি করতে কেউ কেউ নিজেদের জমির বড় বড় গাছ ও বাঁশঝাড়ও কেটে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যক্তিগত জায়গার স্বার্থের চেয়ে গ্রামের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই তারা এসব করছেন।
তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অধিকাংশ বাসিন্দা যেখানে রাস্তার জন্য নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে সহযোগিতা করছেন, সেখানে শাজাহান মিয়া রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় সামান্য জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নন। তাদের দাবি, এ কারণে রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও চলাচলের উপযোগী করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্রামবাসীরা বলেন, তারা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করতে চান না। তারা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে জমির অবস্থান, রাস্তার প্রয়োজনীয়তা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান করুক। তাদের ভাষ্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। অধিকাংশ মানুষ যখন বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের জায়গা ছেড়ে সহযোগিতা করছেন, তখন একজনের কারণে পুরো গ্রামের মানুষের চলাচল যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
থানায় অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, রাস্তা ও গাছ কাটার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে রাস্তা চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে স্থায়ীভাবে চলাচলের উপযোগী করা হোক। পাশাপাশি গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
তারা বলেন, গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য একটি স্থায়ী রাস্তা প্রয়োজন। এ নিয়ে যেন কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
চেয়ারম্যানের বক্তব্যঃ
এ বিষয়ে বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। গ্রামবাসীর নামে থানায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি ওসির সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব। খুব শিগগিরই রাস্তার সমস্যার সমাধান করা হবে এবং রাস্তাটি মেরামত করা হবে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে তারা আর শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও প্রচলিত আইন বিবেচনায় নিয়ে রাস্তাটির একটি স্থায়ী সমাধান করবে।
২৩/০৮/২০২৬ইং
ক্যাপশন এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি
