
গাইবান্ধায় মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে অভিভাবকের ব্যয়
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধাঃ
সন্তানের ভালো ভবিষ্যতের আশায় গাইবান্ধা সদরসহ জেলার বিভিন্ন নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তি করাচ্ছেন অভিভাবকেরা। ভর্তি ফি মাসিক বেতন পরীক্ষা ফি পোশাক বই খাতা ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বাবদ প্রতিবছর গুনতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য অর্থ। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই ব্যয় অনেক সময় বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এরপরও যেন শেষ হচ্ছে না শিক্ষার খরচ। স্কুলে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় দেওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থীকে চার পাঁচটি এমনকি ছয়টি পর্যন্ত প্রাইভেট বা কোচিং করতে হচ্ছে। এতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পড়াশোনার চাপে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিশ্রাম খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সময় কমে যাচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন স্কুলে এত সময় এবং অর্থ ব্যয় করার পরও যদি প্রতিটি বিষয়ে আলাদা করে প্রাইভেট পড়তে হয় তাহলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কতটা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট পড়ানো কিংবা কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ছে। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ব্যাগ নোটবুকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রতিষ্ঠানভেদে যাচাই করা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় শুধু ভালো ফলাফল নয় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রকৃত শিক্ষা পাচ্ছে কি না সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষার মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত শ্রেণিকক্ষ। প্রাইভেট ও কোচিং শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক হতে পারে কিন্তু তা যেন মূল শিক্ষার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফি শিক্ষা উপকরণের ব্যয় এবং শিক্ষককেন্দ্রিক কোচিং ব্যবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা একটাই সন্তানের শিক্ষার জন্য তারা অর্থ ব্যয় করবেন কিন্তু একই শিক্ষা পেতে যেন স্কুলের বাইরে বারবার অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে না হয়।
