মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোঃ মাহবুব আলম যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, চুরি-ডাকাতি এবং বিভিন্ন ধরনের সংঘাত প্রতিরোধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারিতে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
থানা সূত্র ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সাঘাটা থানা পুলিশ। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে একাধিক গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ৫ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ওসি মোঃ মাহবুব আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরদার করা হবে।
ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার
সাঘাটা উপজেলার চন্দনপাট ও উল্ল্যা বাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকা এবং ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
ওসি মাহবুব আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সাঘাটা থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোচিত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
সাঘাটার আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি ওসি মোঃ মাহবুব আলম নিশ্চিত করেন।
ভুক্তভোগীবান্ধব পুলিশিংয়ে গুরুত্ব
শুধু অপরাধ দমন নয়, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি মাহবুব আলম, এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিরোধ, মারামারি কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যায় ভুক্তভোগীরা থানায় গেলে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
জনগণের নিরাপত্তাই প্রধান দায়িত্ব
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় দৈনিক আলোচিত কণ্ঠ-এর
সঙ্গে কথা বলেন ওসি মোঃ মাহবুব আলম। তিনি বলেন, আমার কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জসীম উদ্দিন স্যারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং তাঁর দিকনির্দেশনায় আমি সব সময় তৎপর থাকি।
তিনি আরও বলেন, সাঘাটাকে মাদক, জুয়া ও অপরাধমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর। এ কাজে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে পুলিশের নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
আস্থার জায়গা তৈরি করতে চান ওসি মোঃ মাহাবুব আলম
স্থানীয় সুধীজন ও জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজনের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন এবং কমিউনিটি পুলিশিং আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সাঘাটা থানার বর্তমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন থানায় গিয়ে হয়রানি ছাড়াই আইনগত সেবা পান,এ বিষয়েও পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি থাকবে, এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
