
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতেষ্ট ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবার পানিতে রিফ্লেক্স ও প্লাস্টিকের বস্তায় বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তদন্তে নিহতের পরিচয় ডলি আক্তার (৩০) হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়াচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পিবিআই গাজীপুরের ক্রাইমসিন টিম। তথ্যপ্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে গ্রেপ্তার মো. মিশন ইসলাম (২২)-এর প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা একই গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে পরিচিত হন এবং ডলি আক্তার প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশের দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি আক্তার মিশনের বাসায় যান। সেখানে খাবার খাওয়ার পর দুজন একই কক্ষে অবস্থান করেন। পরে পূর্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিশন ডলির মাথায় আঘাত করেন এবং রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
পরদিন সকালে মিশন লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি সুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু সুটকেসে মরদেহ রাখা সম্ভব না হওয়ায় তিনি রেডব্যাগ সংগ্রহ করে ডলি আক্তারের মরদেহ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করেন। এরপর মরদেহের একাংশ সুটকেস ও অপরাংশ পলিথিন মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে মিশন তার বন্ধু মো. মিজানুর রহমান মিটুন (২৪)-কে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে সহযোগিতার জন্য ডেকে আনেন। মিশন ও মিটুন মিলে সুটকেস ও বস্তাটি অটোরিকশায় তুলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর ব্রিজ এলাকা থেকে নিচের খালের পানিতে ফেলে দেন। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্থান থেকে সুটকেস ও বস্তা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মিশন ইসলামের মা বানু আক্তার (৪০)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত অবস্থায় থাকায় প্রথমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিঞ্জপ্ত ময়না-তদন্তের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
