
মোঃ রানা সরকার বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাসরিমুল ইসলাম শিহাব (২২) নামে এক যুবকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। মামলার বাদী মোছাঃ ইসরাত জাহান ইশামনি (১৯)। তিনি বিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মোঃ এরশাদ হোসেনের মেয়ে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিরামপুর উপজেলার চৌঠা গ্রামের মোঃ আঃ রাজ্জাকের ছেলে তাসরিমুল ইসলাম শিহাব (২২), নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার সুতাহাটি গ্রামের মোঃ আক্কাছ আলীর ছেলে ফারুক (৪২) এবং বিরামপুরের চৌঠা গ্রামের মৃত মজর উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪৫)। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বাদিনী উল্লেখ করেন,তিনি বিরামপুর সরকারি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিরামপুরের ধানহাটি এলাকার একটি ছাত্রীনিবাসে থেকে লেখাপড়া করতেন। অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি তাসরিমুল ইসলাম শিহাবও একই কলেজের শিক্ষার্থী এবং পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয় ছিল।
অভিযোগে বলা হয়,শিহাব বিভিন্ন সময় বাদিনীকে প্রেম ও ভালোবাসার কথা বলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখাতেন। একপর্যায়ে গত ১৬ জুলাই ২০২৬ বিকেলে তাকে মোটরসাইকেলে করে বিরামপুরের রানীনগর এলাকায় তার নানার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রাতের দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদিনী। পরদিন তাকে ট্রেনযোগে ফুলবাড়ী থেকে আক্কেলপুরে এবং সেখান থেকে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার ভান্ডারপুর বাজারে নেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২ নম্বর আসামি ফারুকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ের কথা বলা হলেও সেখানে বিয়ে না করে বাদিনীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়,কিছুদিন পর গত ১০ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ১ নম্বর আসামি মোবাইল ফোনে বাদিনীকে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার ভাড়া বাসায় যেতে বলেন। ওই দিন রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ে করবেন এমন আশ্বাসে বাদিনী সেখানে গেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে একই দিন বাদিনীকে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে বাদিনী ও ১ নম্বর আসামিকে বিরামপুর উপজেলার ৫ নম্বর বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাদশার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদিনীর দাবি,সেখানে ১ নম্বর আসামি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন। পরে ২ ও ৩ নম্বর আসামিও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো সমাধান হয়নি। এরপর চেয়ারম্যান বাদিনীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এফিডেভিটে বাদিনী দাবি করেছেন,গত ৫ সেপ্টেম্বর বিরামপুর থানায় মামলা করতে গেলে তার মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালতে দাখিল করা মামলায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ, আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য বা পুলিশের তদন্তের ফলাফল এ প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত জানা যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ।
মোঃ রানা সরকার বিরামপুর
উপজেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
১৫/০৯/২০২৬ইং
