
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণ। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে তিন দফা ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার গোপালচরণে। বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় স্থানীয়দের। আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটে।
চার মিনিটে তিন বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা’র বাড়ির সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে।
এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৪টা ২৮ মিনিটে, গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর আরও দুই মিনিটের ব্যবধানে, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে তৃতীয় বিস্ফোরণ ঘটে।
পরপর তিনটি বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখতে রাস্তায় জড়ো হন।
‘জয় বাংলা’ স্লোগানের দাবি
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের সময় হামলাকারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়। তবে এ দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, গোপালচরণ এলাকায় এর আগে এ ধরনের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। ফলে হঠাৎ ভোরে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পরপর তিনটি বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, ফজরের আজানের কিছু আগে তাঁর বাড়ির সামনে বিকট শব্দে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের সামনে এবং পরে দক্ষিণ পাশের সড়কে আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তিনি বলেন, পরপর তিনটি বিকট শব্দে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আশপাশের লোকজনও রাস্তায় চলে এসেছেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে ককটেলের খোসাগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, তদন্ত শুরু
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ ককটেলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভোরের এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
এই প্রতিবেদন প্রেরণ করার সময়ে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আলোচিত কন্ঠকে বলেন এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
